বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাত এখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) তিনি পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কো পাল্টা হামলা চালাতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জবাবে ইউক্রেইনের একটি সামরিক স্থাপনায় নতুন ধরনের হাইপারসনিক মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এমন আরও হামলা চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্র দিয়ে আরও হামলা চালানোর আগে বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক করা হবে।
পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অনুমোদনের পর ইউক্রেইন ১৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ছয়টি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১ নভেম্বর ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এইচআইএমএআরএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালায়।
মস্কোর স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, “ঠিক ওই মুহূর্ত থেকেই ইউক্রেইনে চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক থেকে বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে।”
পুতিনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বকে বৈশ্বিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইউক্রেইনের আগ্রাসী পদক্ষেপ বাড়লে আমরাও সমান দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দেব।”
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “মার্কিন এটিএসএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো ইউক্রেইনীয় হামলায় তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ২১ নভেম্বর স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কুরস্ক অঞ্চলে একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।”
তিনি বলেন, “শত্রুর এসব অস্ত্র ব্যবহার সামরিক কার্যক্রমের গতিপথ বদলাতে পারবে না।”
পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যেসব দেশ তাদের অস্ত্র আমাদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত করার অধিকার রাশিয়ার রয়েছে। কেউ যদি রাশিয়াকে দুর্বল মনে করে, তবে তারা ভুল করছে। আমরা প্রতিটা হামলার জবাব অবশ্যই দেব।”
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো ক্রিমিয়া, ৮০ শতাংশ ডনবাস অঞ্চল এবং জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন অঞ্চলের ৭০ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড।
ইউক্রেন ও পশ্চিমারা রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে সাম্রাজ্যবাদী ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা হিসেবে দেখছে এবং আশঙ্কা করছে যে ইউক্রেন জয়ী হলে রাশিয়া ন্যাটোর কোনও সদস্য দেশেও আক্রমণ করতে পারে।
পুতিন বলেছেন, রাশিয়া সম্প্রতি ‘ওরেশনিক’ নামে একটি নতুন মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক নন-নিউক্লিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে অবস্থিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তিনি দাবি করেছেন, এই আঘাত সফল হয়েছে।
পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন পদক্ষেপ একটি বড় ভুল।
রাশিয়া একতরফা আইএনএফ চুক্তির আওতায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে পুতিন বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ পশ্চিমাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইউক্রেন সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা অস্ত্রের ব্যবহার এবং রাশিয়ার পাল্টা হামলা বিশ্বকে নতুন এক সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply